শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Dainik Provat

বহুল প্রতীক্ষিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

প্রভাত রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:১৬, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সর্বশেষ

বহুল প্রতীক্ষিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বহুল প্রতীক্ষিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে বহুল প্রতীক্ষিত দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (ঢাকা উড়াল সড়ক) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রান্তের কাওলা অংশে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি প্রথম ধাপের এ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি এ প্রকল্প সম্পর্কে সচিবের দেওয়া প্রেজেন্টেশন দেখেন ও ব্রিফ শোনেন।
এরপর কাওলা প্রান্ত থেকে টোল দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছোটবোন শেখ রেহানা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুর সোয়া ২টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। শিল্পী রাজিবের ‘বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’ গান দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্বোধন ঘিরে এক্সপ্রেসওয়ের দুপাশ প্ল্যাকার্ড ও পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে।

এদিন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকে দলে দলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই মাঠে জনতার ঢল নামে।

তবে দুপুর ১টার দিকে হঠাৎই শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের কড়া নিরাপত্তায় উদ্বোধনস্থলে ঢুকতে দিতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। দুপুর আড়াইটায় একই চিত্র দেখা যায় প্রবেশমুখগুলোতে।

দেশের প্রথম এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত এর প্রথম অংশের উদ্বোধন হলো আজ। বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের দূরত্ব ১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার। আগামীকাল রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়েটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

উড়াল সড়কটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত যাবে। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনসহ ভ্রমণে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ উড়াল সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
এরই মধ্যে এই উড়াল রুটের টোল প্লাজা ও ওঠানামার র‌্যাম্পের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। দ্রুতগতির এ উড়াল সড়কে কাওলা, কুড়িল, মহাখালী, বনানী, তেজগাঁও ও ফার্মগেটে টোলপ্লাজা থাকবে। কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পথ অতিক্রমে সময় লাগবে ১২-১৫ মিনিট। বর্তমানে এ অংশটুকু যেতে আসতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলের জন্য যানবাহনকে চার শ্রেণিতে ভাগ করে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২১ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট অংশের টোলহার জানায়। এতে সর্বনিম্ন টোল ৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চার শ্রেণির যানবাহনের মধ্যে কার, ট্যাক্সি, জিপ, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল, মাইক্রোবাস (১৬ সিটের কম) এবং হালকা ট্রাকের (৩ টনের কম) টোল ফি (টাকা ও ভ্যাটসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা, সব ধরনের বাসের (১৬ সিট বা এর বেশি) ক্ষেত্রে ১৬০ টাকা, মাঝারি ধরনের ট্রাকের (৬ চাকা পর্যন্ত) ৩২০ টাকা, আর বড় ট্রাকের (৬ চাকার বেশি) ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা টোল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দিয়ে পথচারীদের চলাচল এবং বাইসাইকেল চলানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আপাতত মোটরসাইকেল-অটোরিকশার মতো তিন চাকার যানবাহন চলাচল করবে না বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক দেশের বৃহত্তম প্রকল্প।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণে ২০১১ সালে সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেসরকারি অংশীদারদের চুক্তি হয়। প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সংশোধিত চুক্তি সই হয়।

২০১৪ সালের মধ্যে পুরো উড়াল সড়কের (১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার) কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও এক যুগ পর ২০২৩ সালে এসে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত (১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার) উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হতে পারে।

এই মেগা প্রকল্পে শুরুতে ৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও কয়েক দফা তা বেড়ে ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ প্রকল্পে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিডেট ৫১ শতাংশ, চায়না শ্যানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ ৩৪ শতাংশ এবং সিনো হাইড্রো কোম্পানি লিমিটেড ১৫ শতাংশের অংশীদার। এসব কোম্পানি আগামী ২৫ বছর টোল আদায় করে স্থাপনাটি পুরোপুরি সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে।

জা. ই

সর্বশেষ

জনপ্রিয়