শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Dainik Provat

গ্যাস সংকটসহ চতুর্মুখী চাপে নাজেহাল নগরজীবন 

জাতীয়

প্রভাত রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৩৫, ২৩ জানুয়ারি ২০২৪

সর্বশেষ

গ্যাস সংকটসহ চতুর্মুখী চাপে নাজেহাল নগরজীবন 

ফাইল ছবি

 

 

একেই বলে মরার উপর খাড়ার ঘা। একদিকে চুলায় নেই গ্যাস, অন্যদিকে রান্নার বিকল্প উপায়গুলোও মিলছে না সহনীয় মূল্যে। আবার গ্যাস না থাকাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক চুলার দামও। একইভাবে নিত্যপণ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিমাসেই বাড়ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামও। সবমিলিয়ে চতুর্মুখী চাপে নাজেহাল নগরজীবন। ধানমন্ডি নর্থ রোডের একটি বাসায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রান্নাঘর একটি, কিন্তু চুলা আছে তিন ধরনের। পাইপলাইনের চুলাকে বসিয়ে রেখে, ঘরে ঘরে জ্বলছে এলপিজি সিলিন্ডার চুলা কিংবা বৈদ্যুতিক চুলা। ওই বাসার মতো গোটা মহানগরীতেই একই দশা। লাইনের চুলা না জ্বললেও বিল গুনতে হচ্ছে প্রতিমাসেই। আবার বাড়তি টাকায় কিনতে হচ্ছে সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলা। এ বিষয়ে রাজধানীর এক বাসিন্দা বলেন, সারাদিন গ্যাস থাকে না। বিকেলে গ্যাস আসলেও, তার চাপ এতো কম যে, ব্যবহারই করা যায় না। রান্না তো করাই যায় না, পানি পর্যন্ত গরম করা যায় না। বাচ্চার খাবারও রান্না করতে কষ্ট হচ্ছে। 
আরেকজন বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আবার রাইস কুকারসহ বৈদ্যুতিক চুলাও কিনতে হয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে এগুলো দিয়েই রান্না করি। সমস্যা যেমন পুরানো, তেমনি অভিযোগও বহুদিনের। কিন্তু কোনো কিছুতেই কোনো সমাধান না মেলায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, গ্যাস সংকট সমাধানে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তাতে তো কোনো লাভ হচ্ছে না। আমাদের দিনের পর দিন গ্যাস সংকটে ভুগতে হচ্ছে। আমরা শুধু শুধু হয়রানির শিকার হচ্ছি।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশই গ্যাস সংকটে ধুঁকছে। এর কারণ হিসেবে রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘গত দুইদিন যাবত গ্যাসের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শুক্র ও শনিবার মারাত্মক গ্যাস সমস্যা দেখা দিয়েছিল। শুরুতে চট্টগ্রামে এবং পরে ঢাকায়। আমাদের দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ)। একটির কাজ করতে ডকিং করার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সেটি এদেশে কাজ শুরুর সময়ে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় এফএসআরইউতেও কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপাতত আজকের দিনে আমাদের দুটিই চালু আছে। এরমধ্যে একটি আবার ডকিংয়ে চলে যাবে। তবে যেটি বাইরে থেকে এসেছে, সেটি পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। আমরা আশাবাদী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের গ্যাস সমস্যা দু-একদিনের মধ্যে আরও ভালো অবস্থায় চলে যাবে। এটি হলো সুখবর।
গ্যাস সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আকস্মিক বিষয়। এটি সাময়িক সমস্যা। শীতে গ্যাসে এমনিতেই একটু সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার জন্য। এ সমস্যাটির সমাধান করার জন্য আমরা এরইমধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ইন্ট্রোডিউস করেছি। বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করে। অল্পসংখ্যক গ্রাহক বাসাবাড়িতে চুলায় গ্যাস ব্যবহার করেন। এরমধ্যে ঢাকা এবং আশপাশে, ময়মনসিংহের কিছু অংশ ও চট্টগ্রামের কিছু অংশ রয়েছে। 
কিন্তু এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে সরকারের ওই ব্যাখ্যায় রান্না বন্ধ করার সুযোগ কই? তাই বিকল্প উপায়ে ঝুঁকছে মানুষ। রাজধানীর নিউ মার্কেটের মতো নগরীর বহু মার্কেটে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বৈদ্যুতিক চুলা। তবে গ্যাস সংকটকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বেড়ে গেছে এইসব চুলার দামও। এক বিক্রেতা বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বৈদ্যুতিক চুলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। চলমান গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এদিকে নিত্যপণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিমাসেই বাড়ছে এলপিজির দাম। চলতি মাসের জন্য গত ২ জানুয়ারি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। টানা ৬ মাস ধরে বাড়ানো হয় এ গ্যাসের দাম। বলা চলে, সবমিলিয়ে নাজেহাল দশা উচ্চবিত্ত ছাড়া সবশ্রেণির মানুষের। গ্যাস সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক নগরবাসী বলেন, ‘রান্না করে তো খাওয়ার উপায় নেই। এত টাকা দিয়ে তরকারি কিনে দিনশেষে কাঁচা খাওয়ার দশা হয়েছে। বিল্ডিংয়ের ভেতরে তো লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যায় না। বাড়িওয়ালারা তো রান্না করতে দেয় না। আরেকজন বলেন, একে তো নিত্যপণ্যের দাম বেশি। অন্যদিকে গ্যাস নেই। খাবার কিনে এনে তা রান্না করে খাওয়ার উপায় নেই। এ সংকট মোকাবিলায় একমাত্র সমাধান জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো বলে উল্লেখ করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস এখনও রয়ে গেছে। এটিকে অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের ব্যবস্থা যদি যথাযথভাবে করা যায় তাহলে কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশে গ্যাসের সংকট থাকার কথা না। আমাদের উৎপাদনও ধীরে ধীরে কমে আসছে।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়